জুটির স্বভাব: এটি নম্বর নয়, পার্থক্যের মানচিত্র

এখানে কেউ পয়েন্ট দেয় না আর কেউ নিখুঁত জোড়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় না। আপনারা দুজনের টেস্টের ফলাফল পাশাপাশি রাখেন, আর পাতাটা দেখায় আপনাদের জুটির সাতটি মাপ: কোথায় আপনারা মেলেন, কোথায় আলাদা, আর সেই পার্থক্যটা নিয়ে ভালোবাসায়, কাজে আর ঘরে কী করবেন।

স্যাঙ্গুইনস্যাঙ্গুইন
কলেরিককলেরিক
ফ্লেগম্যাটিকফ্লেগম্যাটিক
মেলানকলিকমেলানকলিক
  • 01হিসেব হয় দুটি টেস্টের ফলাফল থেকে, কোনো ধরনের নাম থেকে নয়।
  • 02জুটির সাতটি মাপ আর পাঁচটি ক্ষেত্র: ঘনিষ্ঠতা, কাজ, ঘর, তর্ক, পরিসর।
  • 03কিছুই জমা থাকে না: জুটিটা থাকে লিংকের ভেতরে, আমাদের ডেটাবেসে নয়।
একসঙ্গে দেখুন

দুটি ফলাফল মিলিয়ে দেখুন

দুটি ফলাফলের লিংক বসান: আপনার আর অন্যজনের। পুরো লিংকেও হয়, তার ভেতরের কি দিয়েও হয়। অ্যাকাউন্ট লাগে না আর কিছুই জমা থাকে না।

এটি কীভাবে চলে

তিনটি ধাপ, আর হাতে কোনো কোড টাইপ করতে হয় না।

  1. 01

    টেস্ট দিন

    166টি উক্তি আর আটটি স্কেল। শেষে আপনি নিজের ফলাফলের একটা লিংক পাবেন, আর ওই লিংকটাই আপনার চাবি।

  2. 02

    দ্বিতীয়জনকে আমন্ত্রণ জানান

    আপনার ফলাফলের পাতায় একটা আমন্ত্রণের লিংক থাকে। অন্যজন সেটি দিয়ে টেস্ট দেন, আর তাঁর ফলাফল আপনাদের জুটিটা খোলার প্রস্তাব দেয়।

  3. 03

    পাঠটা খুলুন

    দুটি ফলাফল পাশাপাশি দাঁড়ায়: অক্ষের মানচিত্র, সাতটি মাপ, পাঁচটি ক্ষেত্র আর ভূমিকা। পাঠটার নিজের একটা লিংক আছে, যেটি আপনারা একে অপরকে পাঠাতে পারেন।

হাতে করা পথটাও চলে: দুজনের ফলাফলই যদি আগে থেকে থাকে, উপরের ঘরদুটোয় দুটি লিংক বসিয়ে দিন। লিংক থেকে চাবিটা আমরাই কেটে নেব।

হিসেবটা কী থেকে হয়

এখানে মেলা মানে কোনো সংখ্যা নয়, কোনো রেটিংও নয়। এটি দুটি প্রোফাইলের মধ্যেকার দূরত্ব, সেসব নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে যেগুলো টেস্ট আপনাদের প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে মাপে।

আপনারা মেলেন
কাজ চলার মতো পার্থক্য
বৈপরীত্য

এর উপরে আসে দুটি অক্ষের যৌথ মানচিত্র, তৎপরতা আর স্থিরতা। আপনাদের দুটি বিন্দুর মধ্যেকার দূরত্বটাই মানুষ সাধারণত মিলে যাওয়া বলতে বোঝায়। সংখ্যাগুলো আসে আপনাদের দুজনের উত্তর থেকে, কোনো ধরনের তকমা থেকে নয়: দুজন স্যাঙ্গুইন একজন স্যাঙ্গুইন আর একজন মেলানকলিকের চেয়েও দূরে দূরে দাঁড়াতে পারেন।

  • 01

    গতি আর শক্তি

    শক্তি, গতি

    একটা দিনে কতটা ধরে আর কত দ্রুত সেটি হয়ে যায়। কখন থামব, এই ঝগড়াটা এখান থেকেই আসে।

  • 02

    মানুষ আর একান্ত সময়

    মেলামেশা

    কার কতজন মানুষ দরকার, আর সামলে উঠতে কতটা একা থাকা দরকার।

  • 03

    পরিকল্পনা আর পরিবর্তন

    নমনীয়তা

    ঠিক হয়ে যাওয়া একটা সিদ্ধান্ত কত সহজে নড়ে। একজনের কাছে পরিকল্পনা ঠেকনা, অন্যজনের কাছে খসড়া।

  • 04

    কত দ্রুত ধরে

    প্রতিক্রিয়া

    সাড়াটার জোর আর গতি। অনুভূতির গভীরতা নয়, ভেতরে ঢেউটা কত দ্রুত ওঠে সেটি।

  • 05

    কত দ্রুত ছাড়ে

    ফিরে আসা

    ঝগড়ার বা কঠিন একটা দিনের পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কতটা সময় লাগে।

  • 06

    আশপাশ আর নীরবতা

    সংবেদনশীলতা

    শব্দ, আলো, হইচই আর অন্যের ভেতরের অবস্থার সীমা। ঘরের প্রায় প্রতিটি সীমারেখা এখান থেকেই গজায়।

  • 07

    শেষ পর্যন্ত কে টানে

    লেগে থাকা

    প্রথম আগ্রহটা চলে যাওয়ার পরে কে চেষ্টা ধরে রাখেন, আর কে সহজেই নতুন কিছুতে সরে যান।

স্বভাবের দশটি সংমিশ্রণ

ধরনের নাম কেবল একটা মোটা কাঠামো দেয়: একই ধরনের ভেতরেও মানুষ অনেক আলাদা। কাঠামোটা তবু কাজের, তাই দশটি সংমিশ্রণ এখানে এক লাইন করে।

  • স্যাঙ্গুইন আর স্যাঙ্গুইন

    দুজনেই দ্রুত শুরু করেন: নড়াচড়া অনেক, ব্রেক কম। ঠিক করে নেওয়া দরকার শেষ পর্যন্ত কে টানবে।

  • স্যাঙ্গুইন আর কলেরিক

    গতি আর তাগিদ: যেকোনো কাজে শক্ত জুটি, আর ঝগড়া বেশিরভাগ শেষ সিদ্ধান্তটা কার, তা নিয়ে।

  • স্যাঙ্গুইন আর ফ্লেগম্যাটিক

    গতি আর নোঙর: একজন বাইরে ডাকেন, অন্যজন ঘরে ফেরান। গতি নিয়ে একবার খোলাখুলি কথা হলে স্থির জুটি।

  • স্যাঙ্গুইন আর মেলানকলিক

    হালকা ভাব আর গভীরতা: একজন দ্রুত কাছে আসেন, অন্যজন আগে দেখে নেন। গতিই এই জুটির প্রধান সুর।

  • কলেরিক আর কলেরিক

    দুটি ইঞ্জিন: সিদ্ধান্ত আসে সঙ্গে সঙ্গে আর তর্ক দ্বৈরথ হয়ে দাঁড়ায়। ভাগ করা দায়িত্বই একে বাঁচায়।

  • কলেরিক আর ফ্লেগম্যাটিক

    চাপ আর শান্তি: একজন ঠেলেন, অন্যজনের গতি বাড়ে না। এখানে সবকিছু দাঁড়িয়ে আছে অন্যের গতির প্রতি সম্মানের উপর।

  • কলেরিক আর মেলানকলিক

    তাগিদ আর নিখুঁত হওয়া: কাজে শক্ত জুটি, যতক্ষণ সমালোচনা মুখে বলা হয় আর রায় হিসেবে পড়া না হয়।

  • ফ্লেগম্যাটিক আর ফ্লেগম্যাটিক

    দুজনেই শান্ত: ঘর নিরিবিলি আর সমান, আর বদল আসে বাইরে থেকে। বোঝানোর চেয়ে বাইরের একটা সময়সীমা ভালো কাজ করে।

  • ফ্লেগম্যাটিক আর মেলানকলিক

    উঁচু সীমার একটা নিরিবিলি জুটি: শব্দ কম আর না বলা কথা অনেক। জিনিসের নাম দেওয়ার অভ্যাসটাই সবচেয়ে কাজে দেয়।

  • মেলানকলিক আর মেলানকলিক

    দুজনেই গভীর: ব্যাখ্যা ছাড়াই বোঝাপড়া আর শেষ না হওয়া বিশ্লেষণ। বাইরে ডাকার কাজটা সাধারণত অন্য কেউ করেন।

এই তালিকায় বেমানান কোনো সংমিশ্রণ নেই। একই রকম জুটিতে ঘষা কম আর যৌথ অন্ধ জায়গা বেশি, বিপরীত জুটিতে ঠিক উল্টো, আর কোনোটাই আগে থেকে কিছু প্রতিশ্রুতি দেয় না।

পাঁচটি ক্ষেত্র কী দেখে

একই সংখ্যাগুলো জীবনের আলাদা আলাদা অংশে আলাদা আচরণ করে, তাই পাঠটা সেগুলোকে এক ক্ষেত্র করে নেয়।

ভালোবাসা আর ঘনিষ্ঠতায়

কাছে আসার গতি, সাড়ার জোর, নিরিবিলির প্রয়োজন। এখানে সমান থাকা মানুষটিকে প্রায়ই ঠান্ডা দেখায় আর স্পষ্ট সাড়ার মানুষটিকে বাড়াবাড়ি, আর দুটো সিদ্ধান্তই সাধারণত ভুল।

একসঙ্গে কাজ করলে

গতি, দম, পরিকল্পনার প্রতি মনোভাব। যৌথ একটা কাজ লাভজনক কি না আর কোন ভাগাভাগিতে, পাঠটা তা সোজা করে বলে দেয়।

ঘরে আর পরিবারে

পরিকল্পনা, গোছগাছ, শব্দ, অতিথি। ঘরের জীবন খুঁটিনাটি নয়, ওখানেই সীমার পার্থক্যটা প্রতিদিন টের পাওয়া যায়।

কথায় আর তর্কে

কথার তাপ আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার গতি। অর্ধেক অভিমানই জন্মায় এখান থেকে যে একজন ছেড়ে দিয়েছেন আর অন্যজন তখনও কথার ভেতরে।

কার কতটা পরিসর দরকার

কার কতটা নিরিবিলি আর নিজের সময় দরকার। সীমা মানে দূরত্ব নয়, সেটি সেই শর্ত যাতে একটা জুটি নিজেকে ক্ষইয়ে না ফেলে।

ভুল ধারণা

বিপরীতরা একে অপরকে টানে।

টান সহজ; একসঙ্গে থাকাটা সেই জুটির, যারা কথা বলে নিয়েছে। বৈপরীত্য জুটিকে বিস্তার দেয় আর সেখানে কথা বলতে হয়, যেখানে একই রকম মানুষরা নীরবেই সামলে নেন।

কিছু ধরনের জোড়া নিখুঁত।

কিছু সংমিশ্রণে ঘষা কম, কিছুতে বেশি। নিখুঁত বলে কিছু নেই, আর কোনো সংমিশ্রণই আগে থেকে কিছু প্রতিশ্রুতি দেয় না।

কতটা মেলে তা শতাংশে বলা যায়।

একটা সংখ্যা দেখতে বিশ্বাসযোগ্য আর তার কোনো মানে নেই: জনসংখ্যার মানদণ্ড আমাদের নেই, আর 73 শতাংশ কেউ যাচাই করতে পারে না। তাই পাঠটা একটা নম্বরের বদলে প্রতিটি মাপে ফাঁকটা দেখায়।

সম্পর্কের ভাগ্য স্বভাবই ঠিক করে।

স্বভাব বর্ণনা করে চলার ধরন: গতি, সাড়া, সীমা, দম। মূল্যবোধ, পরিস্থিতি আর একে অপরের সঙ্গে আপনারা কেমন ব্যবহার করেন, সেগুলো এর থেকে বেরোয় না।

নিজেদের জুটিটা মিলিয়ে দেখুন

টেস্ট দিয়ে শুরু করুন: 166টি উক্তি আর 15 থেকে 20 মিনিট। তারপর অন্যজনকে একটা লিংক, আর পাঠটা আপনাদের দুজনের জন্যই খুলে যায়।

টেস্ট দিন